হিলি স্থলবন্দর

স্লট বুকিং নিয়ে দ্বন্দ্বে আমদানি রফতানি বন্ধ

মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিজ দেশে উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ অন্য দেশে রফতানি করবে না বলে তিনদিন ধরে ট্রাকের স্লট বুকিং বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিজ দেশে উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ অন্য দেশে রফতানি করবে না বলে তিনদিন ধরে ট্রাকের স্লট বুকিং বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর প্রতিবাদে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ-আলুসহ সব ধরনের পণ্যের আমদানি-রফতানিও বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরের আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় রফতানিকারকরা জানান, গত রোববার পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে ওইদিন আগের স্লট বুকিং অনুযায়ী বাংলাদেশে পণ্য দুটির রফতানি স্বাভাবিক ছিল। গত সোমবার নতুন করে স্লট বুকিং না হওয়ায় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ছিল। তবে আগের স্লটের মাধ্যমে দুই ট্রাক আলু রফতানি হয়েছিল। তখন অন্যান্য পণ্যের রফতানিও স্বাভাবিক ছিল।

ভারতের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অনিল সরকার বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) ‌সকালে পাঁচ ট্রাক পণ্য রফতানির পর পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক রেখে সড়কে বন্ধ করে দেয় রফতানিকারকরা। যার কারণে বেলা ১১টার পর থেকে সব ধরনের পণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফায় বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। তবে আলু ও পেঁয়াজ বোঝাই যেসব ট্রাক পার্কিংয়ে ঢুকেছে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

অনুমতি পেলে রফতানি শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে স্লট বুকিং বন্ধের কারণে ভারতের বিভিন্ন সড়কে আলু ও পেয়াঁজ বোঝাই বেশকিছু ট্রাক আটকে আছে। এতে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এরই মধ্যে দুদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে, এতে পণ্যের মান খারাপ হয়ে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, ‘ভারতের কাস্টমস ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন রফতানিকারকরা। স্লট বুকিং শুরু হলে আবারো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হবে।’

প্রসঙ্গত, ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে না জানিয়ে সেখান থেকে অন্য রাজ্যে এবং বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজ রফতানি করা হচ্ছিল। ফলে সেখানে পণ্য দুটির দাম হু হু করে বাড়ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভিন্ন রাজ্যসহ বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে।

আরও